• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

ট্রেন চলাচল বন্ধে মানবেতর জীবনযাপন নীলফামারীর ৭০টি কুলি পরিবার

????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

সিসি নিউজ।। পরিবারের ৫ সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে ইরফান আলী (৩৮)। কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় তার এ অবস্থা। ইরফান নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের কুলি। গত ১২ দিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মহীণ হয়ে পড়েছে সে। পরিবারের সদস্যদের মুখে এক মুঠো ভাত তুলে দিতে সে এখন ঋণগ্রস্ত। তাঁর মতো করুন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে নীলফামারী জেলার চার স্টেশনের ৭০ জন কুলি।

সূত্রেমতে, নীলফামারী জেলার ৫৬ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে চারটি স্টেশনে ট্রেনের যাত্রী উঠানামা করে। এসব স্টেশনে আসা-যাওয়া যাত্রীদের মালামাল ও ল্যাগেজ পরিবহনের জন্য তালিকাভুক্ত কুলি রয়েছে। এর মধ্যে চিলাহাটি স্টেশনে ১১ জন, ডোমারে ২৬ জন, নীলফামারীতে ১৮ জন ও সৈয়দপুর স্টেশনে ১৫ জন রয়েছে। কুলিরা রেলওয়ে বিভাগ থেকে কোন ভাতা বা মজুরি পায়না। স্টেশনের যাত্রীদের মালামাল পরিবহন করে পাওয়া অর্থই সেই স্টেশনের কুলিদের দৈনিক আয়-উপার্জন। যা দিয়ে পরিবারের ভরণ পোষণ চলে।

কিন্তু গত ১৯ জুলাই থেকে দেশের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সারা দেশে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। এরমধ্যে নীলফামারীর চিলাহাটি-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ‘নীলসাগর’ ও ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’, খুলনা-চিলাহাটি রুটে আন্তনগর ‘রুপসা’, ‘সীমান্ত ও লোকাল ট্রেন ‘রকেট’ এবং রাজশাহী-চিলাহাটি রুটে আন্তঃনগর ‘বরেন্দ্র’ ও ‘তিতুমীর’ ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। দৈনন্দিন চলাচলকারী এই সাতটি ট্রেনের যাত্রীদের মালামাল উঠা-নামা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ভরনপোষণ চলে জেলার ৭০ জন ‍কুলির পরিবার।

ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় দু’বেলায় অনাহারে কাটছে চিলাহাটি স্টেশনের কুলি দুলাল হোসেনের পরিবার। পঞ্চাশোর্ধ বয়সী দুলাল দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এ স্টেশনের কুলি পেশায় নিয়োজিত। তিনি জানান, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চিলাহাটি বাজারে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন পণ্য লোড-আনলোডের কাজ করছে। এতে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা দুই বেলা অনাহারে থেকে একবেলা দুমুঠো খেতে পারছে। কবে চালু হবে ট্রেন-এ আশায় দিন গুনছে সে।

সৈয়দপুর স্টেশনের কুলির সর্দার আব্বাছ আলী জানান, দৈনিক সামান্য আয়ের টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই কুলিদের ঘরে কখনো টাকা সঞ্চয় হয়না। ১২ দিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় আপাতত দৈনিক ভাড়ায় রিক্সা, ভ্যান নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। অনেকেই ধার-দেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। আমরা আশা করছি শীঘ্রই ট্রেন চলাচল শুরু হলে এ অবস্থা থেকে সামলে উঠতে পারবো। আর যদি এটি দীর্ঘ সময় হয়, তাহলে অনেকেই অন্য পেশায় স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে পড়বে।

নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবায়দুল ইসলাম রতন জানান, দেশের সীমান্তবর্তী এ জেলার কুলি পরিবার অতিকষ্টে দিন পার করছে। পাশাপাশি স্টেশন কেন্দ্রিক টি-স্টলগুলো বন্ধ হয়ে রয়েছে। অনেকের পন্য নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, আগে স্টেশনের পথশিশু ও মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য বাইরে থেকে খাবার দিয়ে যেত অনেক মানবিক মানুষ। কিন্তু এখন স্টেশন বন্ধ থাকায় কেউ তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসে না। তিনি সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনগুলো মানবিকভাবে স্টেশন কুলিদের সাহায্যের অনুরোধ জানান। তবে কবে নাগাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে সে বিষয়ে কোন নির্দেশনা এখনো পাননি বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ